ইরানকে সৌদির চাপ!

Spread the love

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে চলমান পারমাণবিক চুক্তিতে দ্রুত রাজি হওয়ার জন্য ইরানকে চাপ দিচ্ছে সৌদি আরব। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতার আশঙ্কায় সৌদি আরব উদ্বিগ্ন জানিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সঙ্গে এক গোপন বৈঠকে তাকে সতর্ক করেছেন সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান। তিনি খামেনিকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত পারমাণবিক চুক্তিকে গুরুত্ব না দিলে ইসরায়েলি সামরিক হামলার মুখে পড়তে পারে ইরান।

দুই উপসাগরীয় ও দুই ইরানি সূত্র সম্প্রতি বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে। সূত্রগুলো বলছে, সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজই ছেলে খালিদকে এই বার্তা দিয়ে পাঠিয়েছেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কাছে।

ইরানের রাজধানী তেহরানে গত ১৭ এপ্রিল এ গোপন বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, সেনাপ্রধান মোহাম্মদ বাঘেরি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে প্রিন্স খালিদ বিন সালমান ইরানের শাসনকর্তাদের বলেন, ট্রাম্প দীর্ঘ আলোচনা সহ্য করবেন না। দ্রুত চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে। না হলে কূটনৈতিক পথ বন্ধ হয়ে যাবে। চুক্তি না হলে ইসরায়েলি হামলার আশঙ্কা রয়েছে, যা গাজা ও লেবাননে চলমান সহিংসতার মধ্যে নতুন উত্তেজনা ছড়াবে।

অবশ্য, এই বৈঠকের বিষয়ে সৌদি আরব ও ইরানের কর্তৃপক্ষ কোনও মন্তব্য করেনি এখনও পর্যন্ত।

২০১৬ সালের পর এটিই ছিল সৌদি রাজপরিবারের কোনও জ্যেষ্ঠ সদস্যের প্রথম তেহরান সফর। ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় দুদেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকে পেজেশকিয়ান জানান, অর্থনৈতিক চাপ কমাতে একটি পারমাণবিক চুক্তি চায় ইরানও । তবে, কেবল ট্রাম্প একটি চুক্তি চান বলে ইরান নিজের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করতে প্রস্তুত নয়।

ট্রাম্প সম্প্রতি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর উপস্থিতিতে ঘোষণা দিয়েছেন, তেহরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা চলছে। অথচ নেতানিয়াহু তখন ইরানবিরোধী সামরিক সমর্থন চেয়ে ওয়াশিংটন গিয়েছিলেন।

সূত্রমতে, ট্রাম্প প্রশাসনের ‘অনিশ্চিত ও অসম’ কৌশল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইরানি পক্ষ। কারণ, আগে তারা সীমিত সমৃদ্ধকরণ মেনে নিয়েছে, আবার এখন তা পুরোপুরি বন্ধের দাবি এসেছে।

এক ইরানি সূত্র জানায়, ইরান একটি চুক্তি চায়, তবে তা যেন সম্মানজনক হয় এবং তেহরানের শান্তিপূর্ণ সমৃদ্ধকরণ অধিকার স্বীকৃত হয়।

অবশ্য, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে এবং দুই পক্ষ এখন একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দ্বারপ্রান্তে। তবে, ইরান এখনও শর্তসাপেক্ষে আলোচনা চালিয়ে যেতে চায়।

এদিকে, সরাসরি সৌদি বার্তার বিষয়ে কিছু বলেনি ট্রাম্প প্রশাসন। তবে, হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র কারোলিন লেভিট বলেন, ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন—চুক্তি করুন, না হলে পরিণতি ভয়াবহ হবে। বিশ্বও তা গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে।

মূলত, ইরানপন্থি শক্তিগুলোর সামরিক বিপর্যয় ও বাশার আল-আসাদের পতনে মধ্যপ্রাচ্যে তেহরানের প্রভাব অনেকটাই কমে গেছে। এ সুযোগেই সৌদি আরব কূটনৈতিকভাবে সক্রিয় হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

কার্নেগি মধ্যপ্রাচ্য কেন্দ্রের ইরান বিশেষজ্ঞ মোহানাদ হাগে আলী বলেন, সৌদি আরব যুদ্ধ এড়াতে চায়, কারণ তা তাদের অর্থনৈতিক লক্ষ্য ও স্থিতিশীলতার পথে বড় বাধা হবে।

বৈঠকে প্রিন্স খালিদ আরও বলেন, রিয়াদ কখনোই আমেরিকা বা ইসরায়েলকে সৌদি ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরান আক্রমণের অনুমতি দেবে না। তবে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ইরান ও তার মিত্রদের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড ওয়াশিংটনকে আরও কঠোর পদক্ষেপে প্ররোচিত করতে পারে।


Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *