
নিউজ ডেস্ক, জনতারকথা।
ফেনীতে আজ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচি। এ পদযাত্রা ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে ব্যাপক উত্তেজনা ও উৎকণ্ঠা। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে একদিকে যখন এনসিপি নেতাদের বিরুদ্ধে তোপ দাগছেন বিএনপির ছাত্রসংগঠনের নেতারা, অন্যদিকে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এক ধাপ এগিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করেছে ফেনী জেলা বিএনপি।
রোববার (২০ জুলাই) দুপুরে সোনাগাজীর জিরো পয়েন্টে এক বিক্ষোভ সমাবেশে সদ্য বিদায়ী উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব নুর আলম সোহাগ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নতুন রাজনৈতিক দলের নবাগত এক নেতা, যে বয়সে আমার চেয়েও ছোট, তিনি বিএনপির প্রাণের নেতা সালাউদ্দিন আহমেদকে নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য দিয়েছেন। যদি তারা প্রকাশ্যে ক্ষমা না চায়, তাহলে তাদের ফেনীতে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, এই দেশ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ও তারুণ্যের অহংকার তারেক রহমানের। এ দেশে থাকতে হলে জিয়া পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে থাকতে হবে। আপনারা জুলাই ‘বেচার’ চেষ্টা করছেন, অথচ নেতৃত্ব আমরা দিয়েছি তৃণমূলে। জুলাই শুধু আপনাদের একার না, এটা গণমানুষের। মুক্তিযুদ্ধের মতো একপাক্ষিক ইতিহাস রচনার চেষ্টা করলে জনগণই আপনাদের বয়কট করবে।
এদিকে এনসিপির আজকের কর্মসূচিকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে গত বছরের বন্যাকালীন সময়ে টিএসসির গণত্রাণ কার্যক্রম থেকে সংগৃহীত অর্থ ফেনীতে ব্যয় না করে প্রধান উপদেষ্টার তহবিলে জমা দেওয়ার বিষয়ে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও চলছে নানা আলোচনা সমালোচনা।
জেলা যুবদলের আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন খন্দকার বলেন, ত্রাণের ১২ কোটি টাকা নিয়ে ফেনীর মানুষ ক্ষুব্ধ। এর দায় বিএনপি নেবে না, সাধারণ মানুষ কিছু করলে সেটা তাদের নিজস্ব প্রতিক্রিয়া।
তবে, বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের একাধিক নেতাকর্মী এনসিপির কর্মসূচি ঘিরে কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেও এসব কর্মকাণ্ডে দলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছেন ফেনী জেলা বিএনপি।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার ও সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন আলাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানো হচ্ছে যে, এনসিপির ফেনী সমাবেশ প্রতিহত করা হবে- এ ধরনের উদ্যোগের সঙ্গে ফেনী জেলা বিএনপির কোনো সম্পৃক্ততা নেই। যারা এ ধরনের গুজব ছড়াচ্ছে, আমরা তাদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই। তারা ফ্যাসিস্টদের দোসর, শান্ত ফেনীকে অশান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দলীয় নেতাকর্মীদের কেউ যদি উসকানিমূলক বক্তব্য দেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা এহসানুল মাহবুব জোবায়ের জানান, বন্যার সময় সংগৃহীত ত্রাণের অর্থ তখনই উপদেষ্টার তহবিলে জমা দেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে স্পষ্ট প্রতিবেদনও রয়েছে। এরপরও কিছু মহল এ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি করছে।
তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ রাখছি। নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আমরা শঙ্কিত নই। পুলিশ, র্যাব ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত রাখা হয়েছে।
এদিকে এনসিপি নেতাদের ফেনী আগমন উপলক্ষ্যে জেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে। সোমবার (২১ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি রয়েছে। এদিকে শহরের ট্রাংক রোড শহিদ মিনারের সামনে এনসিপির পদযাত্রার সমাবেশস্থল তৈরির শেষ মূহুর্তের কাজ চলছে। পদযাত্রা উপলক্ষে শহরের প্রধান সড়কে নেতাকর্মীদের ব্যনার ফেস্টুন সাঁটানো হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, এনিসিপির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কোনো অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি যেন না ঘটে, সেজন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। শহিদ মিনার ও মহিপাল এলাকায় পুলিশ মোতায়েন থাকবে। এছাড়া সেনাবাহিনী ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে আমরা মনে করি, নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ধরনের শঙ্কা নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছি।
উল্লেখ্য, জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি ও দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রার অংশ হিসেবে সোমবার (২১ জুলাই) ফেনীতে আসছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতারা। এদিন বিকাল ৫ টা থেকে শহরের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণ ও মহিপালে পথসভা করবে দলটি। পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন সড়কে পদযাত্রা করবে দলের নেতাকর্মীরা। এছাড়াও সার্কিট হাউজে জুলাই অভ্যুত্থানে আহত ও শহিদ পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করবে দলটির নেতাকর্মীরা।