কুষ্টিয়ার মিরপুরে রবি মৌসুমে ফসলের সমারোহ কৃষকের প্রাণচাঞ্চল্য

Spread the love

নিজস্ব প্রতিবেদক ।

কুষ্টিয়ার মিরপুরে উপজেলার মাঠজুড়ে এখন সোনালি সম্ভারের অপেক্ষা। রবি মৌসুমের সবুজ-সোনালি ফসলে ভরপুর কৃষিজমিতে কাজের প্রাণচাঞ্চল্য দেখে বোঝা যায়, এখানকার কৃষকেরা যেন প্রকৃতির ক্যানভাসে স্বপ্নের রং ফলাচ্ছেন। চলতি মৌসুমে ১২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে গম, মসুর, ভুট্টা, সরিষা, আলু, পেঁয়াজ, রসুন ও মটরসহ নানা ফসলের চাষাবাদ হয়েছে, যা মোট আবাদযোগ্য জমির প্রায় অর্ধেক। ইতোমধ্যে পেঁয়াজ তোলার কাজ শুরু হয়েছে, বাজারদর সন্তোষজনক হওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে।

মিরপুরের মোট আবাদি জমির পরিমাণ ২৫ হাজার হেক্টর। সরকারি প্রণোদনা ও কৃষি বিভাগের পরামর্শে কৃষকরা আধুনিক চাষাবাদে উৎসাহিত হচ্ছেন। ছাতিয়ান ইউনিয়নের পয়ারী গ্রামের কৃষক ফরিদ উদ্দিন বলেন, “আবহাওয়া এখনো অনুকূলে আছে। গম, ভুট্টা, সরিষা, মসুর, পেঁয়াজ, রসুন—সব ফসলই ভালো হচ্ছে। পেঁয়াজের দাম পেয়ে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে।

বাকি ফসলেও যেন ভালো ফলন আসে, সেই আশায় আছি।” উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল্লাহ আল-মামুন জানান, “কৃষকদের সর্বাত্মক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সার, বীজ, সেচ ও রোগবালাই দমনে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। প্রণোদনার পাশাপাশি প্রশিক্ষণও চলছে। কৃষকেরা যেন লাভবান হন, সেজন্য বাজার সংযোগ ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা উন্নত করতে কাজ করছি।” স্থানীয় কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, মিরপুরের মাটি ও জলবায়ু রবি ফসল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।

তবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সতর্ক থাকতে হবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি ও উচ্চফলনশীল জাতের বীজ ব্যবহারে উৎপাদন বেড়েছে বলেও তারা জানান। এ অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন শুধু স্থানীয় পর্যায়েই নয়, জাতীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। পেঁয়াজ, আলু, রসুনের ভালো ফলন আমদানি নির্ভরতা কমাতে সহায়ক হবে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। কৃষকেরা আশাবাদী, এবারের রবি মৌসুমে বাম্পার ফলন হবে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে নতুন গতি দেবে। মিরপুরের কৃষক আজ শুধু ফসল ফলাচ্ছেন না, তারা ফলাচ্ছেন দেশের খাদ্য নিরাপত্তার ভিত্তি। তাদের এই শ্রম ও সাধনাকে সহায়তা করলে কৃষি হবে সমৃদ্ধ, বাড়বে দেশের খাদ্য উৎপাদন, কমবে বৈদেশিক নির্ভরতা। তাই কৃষকের পাশে দাঁড়ানো এখন রাষ্ট্রের পাশাপাশি সবারই নৈতিক দায়িত্ব।


Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *